জুলাই-সেপ্টেম্বর

চীনে এফডিআই কমেছে ৫১%

চীনে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই)।

চীনে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই)। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মন্থরতা ও দুর্বল ভোক্তা ব্যয়ের এ সময়ে বিনিয়োগের নিট প্রবাহ ৫১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৮৫০ কোটি ডলারে। খবর নিক্কেই এশিয়া।

দেশটির ব্যালান্স অব পেমেন্ট প্রতিবেদনের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, বিদেশী বিনিয়োগের পরিমাণ ২০২২ সালের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকের সর্বোচ্চ স্তরের তুলনায় ৯২ শতাংশ কমেছে। যদিও কিছু বিদেশী কোম্পানি নতুন কারখানা স্থাপনে ব্যয় করেছে, তবে সামগ্রিকভাবে বিনিয়োগের ধারা এখনো নিম্নমুখী।

২০২২ সালের এপ্রিল-জুন প্রান্তিক থেকে চীনে প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ বড় মাত্রায় কমতে শুরু করে। সে সময় সাংহাইয়ে কভিড-১৯ মহামারীর লকডাউনের কারণে দেশটির অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছিল। এরপর ২০২৩ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে প্রথমবারের মতো বিনিয়োগ প্রত্যাহারের তথ্য পাওয়া যায়।

চীনের অর্থনীতি বর্তমানে দুর্বল প্রবৃদ্ধির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে দেশটির জিডিপি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ, যা আগের প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) ৫ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির চেয়ে কম। এক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে রিয়েল এস্টেট খাতের মন্দা ও দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদা।

চীনে কার্যরত বিদেশী কোম্পানিগুলোও নানা চাপে রয়েছে। মার্কিন কফিশপ জায়ান্ট স্টারবাকস সম্প্রতি জানিয়েছে, স্থানীয় বিনিয়োগ তহবিল বোয়ু ক্যাপিটাল কোম্পানিটির চীনভিত্তিক খুচরা ব্যবসার সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ শেয়ার কিনে নেবে। স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বীদের তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে দেশী পুঁজির সহায়তায় বাজারে টিকে থাকতে চেষ্টা করছে কোম্পানিটি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ডাটা বিশ্লেষণ সফটওয়্যার কোম্পানি এসএএস ইনস্টিটিউট মূল ভূখণ্ড চীন থেকে কার্যক্রম গুটিয়ে নিচ্ছে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি সেখানে প্রায় ৪০০ কর্মী ছাঁটাই করছে।

চীনে অবস্থানরত জাপানি কোম্পানিগুলোর মধ্যেও বিনিয়োগ আগ্রহ কমছে। জাপানিজ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ইন চায়নার জুলাই মাসের এক জরিপে অংশ নেয়া ৪৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, তারা ২০২৫ সালে চীনে বিনিয়োগ কমাবে বা একেবারেই করবে না। মাত্র ১৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা জানিয়েছে।

অন্যদিকে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং। সাংহাইয়ে আয়োজিত চায়না ইন্টারন্যাশনাল ইমপোর্ট এক্সপোতে তিনি বলেন, ‘চীনকে বিদেশী বিনিয়োগের জন্য আরো আকর্ষণীয় গন্তব্য করতে আমরা অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেব। যাতে বিদেশী ব্যবসাগুলো এখানে আরো স্বস্তিতে, সহজভাবে ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরিচালনা করতে পারে।’

আরও